বেঙ্গলি টাইমসকে আপনার হোমপেইজ করুন
বুধবার | ২৩ এপ্রিল ২০১৪ | টরন্টো | কানাডা
আর্কাইভ
প্রবাসের খবর
জর্জিয়ায় তুষারপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত : রাজ্যে জরুরী অবস্থা ঘোষণা
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বাংলাদেশিরা কুশলেই আছেন
সিকদার মনজিলুর রহমান, আটলান্টা থেকে
জর্জিয়ায় প্রচন্ড তুষারপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। রাজ্য সরকার জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে সোমবারের অফিস আদালত ছুটি দিয়ে দেয়। স্কুল কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও সোমবারে ছুটি ঘোষণা করে। কোন কোন কাউন্টি মঙ্গলবারের ক্লাশও স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
গত ৯ জানুয়ারি রবিবার রাত নটা থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত তুষারপাতে জর্জিয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ৬ থেকে ৭ ইঞ্চি তুষারপাত রেকর্ড করা হয়। এ সময়ে বাতাসের তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রী ফারেনহাইট। যোগাগোগ ব্যবস্থা অনুপযোগী হয়ে পড়ায় রোডস এন্ড হাইওয়ে অনেক রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দেয়। আটলান্টা হাসফিল্ড-জ্যাকসন আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরে ১৫শ থেকে ১৬শ বিমান অবতণ-উড্ডয়ন বাতিল হয়েছে বলা জানা যায় । এর মধ্যে ডেলটা এয়ার লাইনসেরই রয়েছে ১৪শ ৫০ টি। এয়ার ট্রেনের বাতিল হয়েছে প্রায় ৫শ । এ ছাড়া মেট্রো আটলান্টা বাস সার্ভিসসহ অন্যান্য কাউন্টির বাস সার্ভিসগুলোও চলাচল বন্ধ রয়েছে। গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কয়েক হাজার দূর্ঘটনা ঘটলেও কোন প্রাণহাণির সংবাদ পাওয়া যায়নি। আগামি কয়েকদিন প্রচন্ড শৈত্য প্রবাহের পুর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। স্থানীয় রেডিও টিভি স্টেশনগুলো তাদের নিয়মিত অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে ঘন ঘন আবহাওয়া বুলেটিন প্রচার করছে।
প্রচন্ড তুষারপাতের কারণে অন্তত লক্ষাধিক বাড়ি-ঘর বিদ্যুৎ বিছিন্ন হয়ে পড়ে। রাতের শিফটের কাজে যাওয়া অনেকেই সকালে বাসস্থানে ফিরতে পারেনি। কর্মস্থলেই আটকে আছে তারা। মেট্রো আটলান্টাসহ বিভিন্ন কাউন্টির রোডস এন্ড হাইওয়ের কর্মীরা বুলডজার দিয়ে রাস্তার বরফ সরানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে তার ৬০ থেকে ৭০ টন সুরকি লবণ রাস্তায় ছড়িয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠন জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতি ও বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব জর্জিয়া জানিয়েছে, এ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বাংলাদেশিরা কুশলেই আছেন । কোন অনাঙ্খিত সংবাদ পাওয়া যায়নি।
 
নাঈমুল ইসলাম খান : নিজ পেশায় স্বকীয়
নাঈমুল ইসলাম খান : সংবাদপ্ত্র জগতে একজন সার্থক ব্যক্তি
ওয়াসিম খান পলাশ, প্যারিস থেকে
চলমান জীবনে সংবাদপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। সংবাদপ্ত্র পৃথিবীকে মানুষের মুঠোর মধ্যে নিয়ে এসেছে। যদিও এখন রেডিও টেলিভিশন,ইন্টারনেট মিডিয়া পৃথিবীকে নিয়ে গিয়েছে আরো কাছে। তারপরও সংবাদপ্ত্র এমন একটি দলিল যা যুগ যুগ ধরে সংরক্ষণ করে রাখা যায়। বাংলাদেশের সংবাদপ্ত্রের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকা ছিল। তার মধ্যে ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, দৈনিক খবর, দৈনিক অবজারভার উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের মতো ঘন বসতিপূর্ন দেশে হাতে গোনা কয়েকটি সংবাদপ্ত্র কখনোই যথেষ্ট ছিলো না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার ছিল ; তা হলো নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশনার অভাব। সঠিক সংবাদের জন্য আমাদেরকে বেশীরভাগ সময় বিদেশী মিডিয়ার উপর নির্ভর করতে হতো। তখন বিদেশী মিডিয়া বলতে আমি বিবিসি, ভয়েজ অফ আমেরিকাকে বুঝাতে চাচ্ছি।
আজ স্বাধীনতার ৪০বছরেও আমাদের সংবাদপ্ত্র মিডিয়া বেশীদূর এগুতে পারেনি। দেশের জনসংখ্যা যে হারে বেড়েছে, সে হারে হয়নি সংবাদপত্রের প্রসার। এসময়টাতে দেশে টেলি জারনালিজমের উত্থান হয়েছে। দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেশ কয়েকটি সরকারি বেসরকারি টিভি চ্যানেল। কিন্তু সংবাদপ্ত্র মিডিয়া এগুতে পারেনি তেমন ভাবে। এর অন্যতম কারণ, এ মাধ্যমে প্রতিভাবান কেউ এগিয়া আসেনি, পাওয়া যায়নি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা।
সেই ক্লান্তি লগ্নে, এক প্রতিভাবানের আবির্ভাব ঘটেছিলো সংবাদপ্ত্র জগতে। তিনি হলেন নাঈমুল ইসলাম খান। তিনি বহুল প্রচারিত দৈনিক আমাদের সময় এর প্রকাশক ও সম্পাদক। দৈনিক আমাদের সময়ের প্রকাশকাল ২০০৭। তিনিই এদেশের একমাত্র প্রকাশক যিনি সর্বস্তরের পাঠকদের ক্রয় ক্ষমতার কথা বিবেচনায় রেখে সংবাদপত্রের মুল্য নির্ধারণ করেছেন। তার প্রকাশিত দৈনিক আমাদের সময়ের ক্রয়মুল্য মাত্র তিন টাকা। যেখানে প্রতিটি জিনিষের মতো সংবাদপ্ত্র সংশ্লিষ্ট দ্রব্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। সেই সাথে অন্যান্য প্রতিটি দৈনিকের ক্রয়মুল্যো বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। সে অবস্থায় এত অল্প মুল্যে পাঠকদের হাতে পত্রিকা পৌছে দেয়া তার দুসাহসিক এক সিদ্ধান্ত।
নাঈমূল ইসলাম খান সংবাদপ্ত্র জগতে একজন সার্থক ব্যক্তি। সর্বপ্রথম ১৯৮০ সালে সাপ্তাহিক খবরের কাগজ পত্রিকার মাধ্যমে এজগতে আত্বপ্রকাশ ঘটে। ম্যাগাজিনটি সে সময়ে বেশ পাঠক প্রিয়তা লাভ করে। ১৯৮২ সালে কিছু সময়ের জন্য মাসিক সময় ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেন। ২০০২ সালে তিনি আজকের কাগজের এ্যাডভাইজারি সম্পাদক হিসাবে যোগদান করেন। সর্বশেষ ২০০৭ সালে দৈনিক আমাদের সময় সম্পাদনা করেন। দৈনিকটির প্রকাশনার দায়িত্বে তিনি নিজেই। নিরপেক্ষ, সঠিক ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনার জন্য খুব অল্প সময়ে পত্রিকাটি ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা লাভ করে। পাঠক জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে আমাদের সময় দ্বিতীয় স্থানে।
একজন দক্ষ ও বিচক্ষণ সাংবাদিক তার দেশ ও জাতিকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারেন। দেশ ও জাতিরও উচিত এদের সঠিক মূল্যায়ন করা ।
 
জাপান আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে অরূপের ছবি
বিশ্বের সর্বাধিক প্রচারিত জাপানি দৈনিক আসাহি শিম্বুনের সহযোগিতায় অল জাপান অ্যাসোসিয়েশন অব ফটোগ্রাফিক সোসাইটিজের উদ্যোগে আগামী ৫ এপ্রিল, ২০১১ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী জাপান আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এবার হতে যাচ্ছে এর একাত্তরতম আয়োজন।
বিগত সাত দশক ধরে অনুষ্ঠিত এ আন্তর্জাতিক আয়োজনটিকে ধরা হয় এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলোকচিত্র প্রদর্শনী হিসেবে।
এ বছরে বিশ্বের ৩২টি দেশ থেকে ৮ হাজার ৬৩০টি আলোকচিত্র জমা পড়ে, যার মধ্যে থেকে সেরা ১৩০টি আলোকচিত্রকে বাছাই করা হয় বছরব্যাপী প্রদর্শনীর জন্য।
আগামী ৫ এপ্রিল টোকিওর ক্যানন গ্যালারিতে এক সাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রদর্শনীটির উদ্বোধন হতে যাচ্ছে যেখানে নির্বাচিত আলোকচিত্রীদের পদক প্রদানের মাধ্যমে সম্মাননা জানানো হবে।
এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ থেকে মনোনীত হয়েছে প্রবাসী আলোকচিত্রী আহমেদ অরূপ কামালের একটি ছবি। অরূপ ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি (বিপিএস) কর্তৃক সেরা তরুণ আলোকচিত্রী হিসেবে পুরস্কৃত হন।
এর আগে তার ছবি কুয়ালালামপুর পারফর্মিং আর্টস সেন্টার এবং পৃথিবী বিখ্যাত ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক পত্রিকার ফটোগ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়েছে। পেশায় তথ্য-প্রযুক্তিবিদ অরূপের ছবি তোলায়
 
মুক্তিযুদ্ধের গল্পবলা ও বিজয়ফুল কর্মসূচি
মিলটন রহমান, যুক্তরাজ্য
বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে শেষ হল মুক্তিযুদ্ধের গল্পবলা ও বিজয়ফুল কর্মসূচি ২০১০। ১৯ ডিসেম্বর প্রচণ্ড তুষারপাতের মধ্যেও পূর্ব লন্ডনের ব্র্যাডি আর্ট সেন্টারের অনুষ্ঠানস্থল ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। বিকাল ৪টায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় বিজয়ফুল কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠান। তারপর মুক্তিযুদ্ধে সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে যোগ দেন ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার আলামা সিদ্দিকী, বাংলাদেশ থেকে আগত কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক সুজা মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান, মুক্তিযোদ্ধা নাজিম চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা লিমন উদ্দিন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমান খান, মুক্তিযোদ্ধা আমান উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশীদ, মুক্তিযোদ্ধা খলিল কাজী ও মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল হক। এছাড়া অংশগ্রহণ করেন ব্রিটেনের বিভিন্ন এলাকার বিজয়ফুল কর্মসূচির প্রতিনিধিরা, সাংবাদিক, শিল্পী-সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
ডেপুটি হাইকমিশনার আলামা সিদ্দিকী তার বক্তব্যে বিজয়ফুলকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের জন্য একটি মাইল ফলক উলেখ করে এর সঙ্গে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশীদের সম্পৃক্ততার আহবান জানান। তিনি বলেন, বিজয়ফুল হচ্ছে আমাদের দেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা বলার একটি চমৎকার মাধ্যম। বাংলাদেশ থেকে আগত প্রখ্যাত কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আজকের দিনটি আমার জন্য স্মরণীয়। যে রঙে এ বিজয়ফুল তা আমাদের রঙ। এটি আমাদের প্রতীক। এ ফুল বাংলাদেশের ইতিহাস বলে। এ ফুল প্রবাসে সব বাংলাদেশীর এক কাতারে দাঁড় করিয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ৭১-এর ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনীর হাতে জি সি দেবের মৃত্যুর কথা স্মরণ করে বলেন, সেদিন যদি শুধু একজন বাঙালিরও মৃত্যু হতো তাহলেও আমাদের কেউ থামিয়ে রাখতে পারত না। তিনি বলেন, যুদ্ধে আমাদের প্রেরণা এমনই ছিল যে শেষ বাঙালিটি বেঁচে থাকা পর্যন্ত আমাদের যুদ্ধ চলত। মুক্তিযুদ্ধের এই চেতনাকে আমাদের মধ্যে সর্বদা জাগিয়ে রাখতে বিজয়ফুল অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মুক্তিযোদ্ধা সুজা মাহমুদ বলেন, বিজয়ফুল আমাদের অস্তিত্বের স্মারক। বিজয়ফুল আমাদের মুক্তি সংগ্রামের বার্তাবাহক। মুক্তিযোদ্ধা নাজিম চৌধুরী বলেন, আমরা দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যা করেছি তার ইতিহাস বিজয়ফুলের মাধ্যমে তুলে দিচ্ছি নতুন প্রজের হাতে। এর বাহক তারা। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা বলেন, বিজয়ফুল আজ যে স্বাধীনতার কথা বলছে সে স্বাধীনতার যারা বিরোধিতা করেছিল অবিলম্বে তাদের বিচার চাই। বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃত করার যারা অপচেষ্টা করছেন তাদেরও বিচার দাবি করেন তিনি। নতুন প্রজের নিশাত মনসুর বিজয়ফুল নিয়ে তার অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, বিজয়ফুলের মাধ্যমে আমরা জেনেছি আমাদের দেশের ওপর বর্বর হায়েনারা কিভাবে আক্রমণ করেছিল। এছাড়া অনুষ্ঠানে গ্রিনিচ বিজয়ফুল কর্মসূচির সমন্বয়ক মুজিবুর রহমান মুজিব বলেন, আমরা এবার অসংখ্য শিশু-কিশোরের সমন্বয়ে কর্মসূচি পালন করেছি। নতুন প্রজ বিজয়ফুলকে গ্রহণ করেছে। কারণ এর মাধ্যমে তারা নিজের শিকড় সম্পর্কে জানতে পারছে। নিউহাম কর্মসূচির সমন্বয়ক এ কে এম আবদুলাহ বলেছেন, নতুন প্রজের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি যোগসূত্র তৈরি করেছে এ বিজয়ফুল। আমরা এ কর্মসূচিকে আরও প্রসারিত করতে চাই। ক্যামডেন, বার্মিংহাম, কার্ডিফ, কভেন্ট্রি, লুটন, ব্রিস্টলসহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধিরা বিজয়ফুল কমিটিকে তাদের কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারায় অপারগতার কথা উপস্থিত সুধীদের জানানোর আহ্বান জানান। সবশেষে কবি শামীম আজাদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সব মুক্তিযোদ্ধা, সংগঠন এবং কর্মসূচি পরিচালনা করার জন্য সহযোগিতা করায় সব সংবাদ মাধ্যমকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বিজয়ফুল আমাদের স্বাধীনতার স্মারক। এ স্বাধীনতার যারা বিরোধিতা করেছিল তাদের আমরা বিচার চাই। তিনি বিজয়ফুল কর্মসূচির সঙ্গে ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশ ও বাংলাদেশে যারা কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন সবাইকে ধন্যবাদ জানান। আলোচনা সভার এক পর্যায়ে বিজয়ফুলের বিভিন্ন কর্মসূচি ও অগ্রযাত্রা নিয়ে একটি ছোট ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। ডকুমেন্টারিটি তৈরি করে তানপুরা প্রোডাকশন। ডকুমেন্টারি প্রদর্শনে সহযোগিতা করেন রাসেল ও মোঃ রেজাউল আলম। একদিকে আলোচনা সভা যখন চলছিল তখন অন্যদিকে চলছিল শিশুদের মুক্তিযুদ্ধের গল্পবলা ও বিজয়ফুল তৈরির কর্মশালা। এ পর্ব পরিচালনা করেন খাদিজা রহমান। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা শিশু-কিশোরদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনান।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন সারোয়ার আলম, গোপাল দাস ও আরফুমান চৌধুরী। কবিতা আবৃত্তি করেন, মুজাহিদুল ইসলাম, লেনিন ও জিয়াউর রহমান সাকলেন। নৃত্য পরিবেশন করেন সাকিবা চৌধুরী।
 
জনেভায় এইডস কনফারেন্সে
পারভীন আফরোজা
সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে দ্বাদশ বিশ্ব এইডস কনফারেন্সে যোগ দিতে যাচ্ছি একা, সঙ্গে কেউ নেই, মনটা বড় খারাপ। এয়ারপোর্টের ভেতরে ঢুকে চেক-ইন করার সময় দেখি আমাদের দেশের শ্রমিকেরা বিদেশে যাওয়ার চেক-ইন সারিতে দাঁড়িয়ে। চেক-ইন করার সময় এয়ারপোর্ট পুলিশ জিজ্ঞেস করলেন, শিশু সঙ্গে আছে? বললাম, নেই। অন্য কেউ? আবারও বললাম, নেই। ভদ্রলোক আমার দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখে পাসপোর্ট, বোর্ডিং কার্ড সব দিয়ে দিল। আমি হাতব্যাগটা নিয়ে টিভির সামনে বসলাম। খেলা হচ্ছে দেখে তেমন মজা পেলাম না। বোর্ডিং কার্ডে ভালো করে গেট নাম্বারটা দেখে নিলাম। পেনে ওঠার পর এয়ারহোস্টেসকে বললাম, যদি ঘুমিয়ে পড়ি তবে জাগিয়ে খাবার দিয়ে যাবেন। একটা কম্বল চেয়ে সেটা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। এয়ারহোস্টেস এসে জাগিয়ে যখন জিজ্ঞেস করলেন, ভেজ অর ননভেজ? ননভেজ নিয়ে খেতে শুরু করলাম। পাশের সিটে একজন ব্রিটিশ বই পড়ছিলেন। লম্বা ভ্রমণে পেনে না ঘুমালে আমার শরীর ভালো লাগে না। লোকটা কি ভাবছে আমার ঘুমানো দেখে কে জানে। মনে হচ্ছিল, নাক ডাকিনি তো! ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথায় যাবে? বললাম, জেনেভা। বললেন, তোমাকে তো অনেকক্ষণ ফ্লাই করতে হবে, অনেক ক্লান্ত হয়ে যাবে। বললাম, তা হব না, কারণ আমি শুধু ঘুমাব। ভদ্রলোক হেসে বললেন, গুড আইডিয়া, আমিও জেনেভা যাব। ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলতে বলতে সময় অনেকটা পার হয়ে গেল। জেনেভা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যখন পৌঁছলাম দেখলাম আমাদের রিসিভ করার জন্য কনফারেন্সের লোগোসহ লোকজন দাঁড়িয়ে আছে। দেখে আমি ভরসা পেলাম। যাক, আর কোন চিন্তা নাই। আমাদের পেন থেকে আরও কিছু যাত্রী ছিলেন যারা একই কনফারেন্সে যোগ দিতে এসেছেন। সবাইকে একটা মাইক্রোবাসে করে হোটেল এবং গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হল। আমাকে এক আফ্রিকান মহিলার সঙ্গে রুম শেয়ার করতে হল। পাশাপাশি দুটো বিছানা, ওয়ারড্রব, টেবিল, এক জোড়া গাউন ও স্যান্ডেল, ছয়টা তোয়ালেসহ বিভিন্ন ব্যবহার্য কসমেটিক্স জোড়া জোড়া করে দেয়া আছে। ঘরটা বেশ সুন্দর। বিছানার চাদর, বালিশের কভার, জানালার পর্দা সবকিছু সাদা। সবচেয়ে আকর্ষণ ছিল জানালাটার বাইরে যে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যেত তা ভিউকার্ডের মতো। বেশ বড় একটা লেক এবং ওপারে পাহাড়। পাহাড়ের গায়ে গায়ে নানান ডিজাইনের ঘর-বাড়ি।
পরদিন ভোরের রোদ বিছানায় এসে পড়েছে। ঘুম থেকে উঠে গোসল সেরে দুজনে রেস্টুরেন্টে নাস্তা করতে গেলাম। বুফে সিস্টেম। পেছনে তাকিয়ে দেখি এক আফ্রিকান ভদ্রলোক ক্র্যাচে ভর করে নাস্তা খেতে আসছেন। আমি তাকে সাহায্য করতে তার জন্য একটা পেট নিলাম, তার পছন্দমতো সব জিনিস পেটে তুলে নিয়ে আমার টেবিলের ঠিক বিপরীতে এনে বসালাম। তাঁর নাম জিজ্ঞেস করতেই বললেন, লুক। বললাম, লুক তো এক প্রখ্যাত ব্যক্তির নাম, যিনি এইডসের জীবাণু আবিষ্কার করেছেন। বললেন, তিনি হলেন
খঁপ গড়হঃধমহরবৎ। আমি বললাম, আমি তার কথাই বলছি। এই লুকের বাড়ি উগাণ্ডায় তবে তিনি লন্ডনে হরো অন দ্য হিল এ বাস করেন। সেখানে তিনি একজন সরকারি ডাক্তার। শৈশবে পোলিও হওয়ায় তার দুটি পায়ের শক্তিই নষ্ট হয়ে গেছে। প্রচণ্ড মেধাবী লুক এই কনফারেন্সে একটি প্রবন্ধ পাঠ করবেন। লুক বসার কিছুক্ষণ পর একঝাঁক আফ্রিকান ছেলেমেয়ে এসে আমাদের আশপাশে বসে পড়ল। দেখে মনে হল সবাই লুককে চেনে, পরে জানলাম তাদের কেউ উগান্ডা, কেউ কেনিয়া, কেউ ঘানার লোক এবং তার পূর্বপরিচিত। লুক আমাকে ওদের পরিচয় করে দিলেন। এরপর যে কদিন ছিলাম আমরা প্রায়ই এক সঙ্গে নাস্তা খেতে নামতাম, আমার কাছে মনে হতো আমরা সবাই যেন একই পরিবারের। সকালে বাস এলো কনফারেন্স হলে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বিরাট কনফারেন্স হল লাইন ধরে রেজিস্ট্রেশন চলছে। দাওয়াতপত্র দেখার পর একব্যাগ ভর্তি কাগজপত্র এবং গলায় একটা পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে দেয়া হল। কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে এক জায়গায় বসে কর্মসূচিগুলো দেখতে লাগলাম। নানান জায়গায় নানান কর্মশালা হচ্ছে, তবে বিকালে প্যানারি সেশন। পছন্দ মতো এক জায়গায় ঢুকে পড়ব এমন সময় দেখি বিভিন্ন টিভি চ্যানেল অংশগ্রহণকারীদের ইন্টারভিউ নিচ্ছে। একটু এগিয়ে গিয়ে একটা চ্যানেলে ইন্টারভিউ দিলাম। প্রশ্ন করা হল, এই কনফারেন্স থেকে আপনি কি আশা করছেন? বললাম, এইডস প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশের কার্যক্রম সম্পর্কে জানব এবং দেশে গিয়ে সেগুলোর বাস্তবায়ন করব। ইন্টারভিউ শেষ হলে আমি একটা সেশনে অংশগ্রহণ করলাম। সেখান থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির স্টলে এসে ঘুরতে ঘুরতে বাংলাদেশী কেউ এসেছে নাকি খুঁজতে লাগলাম। হঠাৎ দেখি গ্যাক্সো স্মিথ কোম্পানির বড় ব্যাগ কাঁধে করে আমাদের দেশের এইডস প্রতিরোধ প্রকল্পের ডা. হাসান মাহমুদ ও ডা. আনোয়ার হোসেন। ভিন দেশের মাটিতে তাদের দেখতে পেয়ে যেন প্রাণে পানি পেলাম। ১৯৯৪ সালে আমরা কান্দুপট্টি যৌনপলীতে যখন এইডস প্রতিরোধের কাজ করি তখন ডা. হাসান মাহমুদ ভাই যৌনকর্মীদের রক্ত সংগ্রহ করে এইডস আছে কি নেই তা পরীক্ষা করতেন। তাকে দেখে বেশ উদ্বেলিত হয়ে বললাম, হাসান ভাই আমি বাংলার মানুষের মুখ খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে গেলাম। তিনি বললেন, আফরোজা ঘুরে ঘুরে ব্যাগ, কলম আর ব্রসিয়র সংগ্রহ করে সামনের ওই টেবিলে আসেন আমরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছি। আমি কলম, ব্যাগ এবং বিভিন্ন কোম্পানির ব্রসিয়র সংগ্রহ করে হাসান ভাইদের কাছে এসে বসলাম। তখন প্রায় দুপুর। কোথায় খাবার পাব বুঝে উঠতে পারছি না। এক জায়গায় দেখলাম আপেল বিতরণ করা হচ্ছে আমরা সেখান থেকে কয়েকটা আপেল নিয়ে খেলাম। কোথায় হোটেল চিনি না। আবার কিছুক্ষণ পরই প্যানারি আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে হবে। সেদিন আর আপেল আর ব্যাগে রাখা কিছু চকোলেট ছাড়া অন্য কিছু খেলাম না।
মনে মনে খুঁজতে থাকলাম খঁপ গড়হঃধমহরবৎ অর্থাৎ এইডসের জীবাণু আবিষ্কারককে। উদ্দেশ্য সঙ্গে একটা ছবি নেয়া। তখন প্রায় সন্ধ্যা। নিচে নেমে দেখি ক্যান্টিনে বসে আফ্রিকান দল গল্প-গুজব করছে। এমন সময় টিভিতে আমার ইন্টারভিউ দেখাচ্ছে। হঠাৎ মোটা এক আফ্রিকান মহিলা আমাকে উঁচু করে তুলে নাচতে শুরু করল। আমি তো হতবাক। বিদেশের টেলিভিশনে নিজের ছবি দেখে বেশ ভালো লাগল। ওই দিন রাতে ১০ ফ্রাঁ করে যে ভাত খেলাম একেবারে অখাদ্য। কোনমতে গিলে রাত ১০টা পর্যন্ত গল্প-গুজব করে কাটালাম। নানান দেশের নানান ভাষা, নানান সংস্কৃতি। তবে সবাই ইংলিশে কথা বলছিলেন। আফ্রিকানদের নয়জনের মধ্যে কয়েকজন এইচআইভি পজিটিভ। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এই দলের সঙ্গে বাকি দিনগুলো কাটাব। এইচআইভি পজিটিভদের সুখ-দুঃখ আনন্দ-বেদনার গল্প শুনব। ডা. ডোনা খুব শান্ত প্রকৃতির মেয়ে। বিশ্বাস করার মতো আচরণ। তেমন বেশি হাসেন না। তবে সব বিষয়ে খুব সিরিয়াস এবং রিজার্ভ।
পরদিন কনফারেন্সে পৌঁছে যে যার পছন্দ মতো সেশনে ঢুকে পড়লাম। সেশন শেষে বিভিন্ন প্রকল্পের এক্সিবিশন দেখলাম। কিছুক্ষণ গে-দের স্টলে কাটালাম ওরা কেমন আচরণ করে, কেমন কথাবার্তা বলে তা দেখা ও শোনার জন্য। এরপর হিজড়াদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কাটালাম। বিদেশী সাদা চামড়ার যৌনকর্মীদের কাছে কিছু সময় কাটালাম। সেখানে এক যৌনকর্মীর সঙ্গে পরিচয় হল। মেয়েটি পিএইচডি ডিগ্রিধারী। এই পেশায় আসার কারণ জানতে চেয়েছিলাম, সে বলল, আমার স্বামী বহুগামী। প্রতি রাতে নতুন নতুন মেয়ে তার চাই। তার সঙ্গে জেদ করে আমি যৌন পেশায় নেমেছিলাম। এখন আমি যৌনকর্মীদের নিয়ে একটা ব্যালে গ্রপ করেছি। বিভিন্ন দেশে ব্যালে শো করে তাদের জীবন কাটে। তাদের আর যৌন কাজ করতে হয় না।
ওই দিন রাতে তাদের একটা শো ছিল। সে আমার কাছে ত্রিশ ফ্রাঁ-য় একটা টিকিট বিক্রি করল। ওই দিন সেশন শেষে সন্ধ্যায় ব্যালে শো দেখতে গেলাম। এদিকে ডা. লুক, ডা. ডোনা বিশেষ করে ডা. নীলসহ দলের সবাই আমাকে রুমে গিয়ে খুঁজেছে এবং আমাকে পায়নি। ব্যালে শো ভীষণ সুন্দর, খুব দক্ষতার সঙ্গে তারা পারফর্ম করেছে। পরিশ্রমী যৌনকর্মীরা ক্লাসিক্যাল ব্যালাড পেশায় ফেরত এসেছে এবং সেই পিএইচডিধারী নারী সবাইকে যৌন পেশা থেকে ফিরিয়েছেন জেনে তাকে স্যালুট করতে ইচ্ছা করল। শো শেষে ট্রামে করে গেস্ট হাউসে ফিরলাম। গলায় পরিচয়পত্র দেখে ট্রামের লোক কোন ভাড়া নিল না। ভাবলাম ভালোই ট্রামে করে ফ্রি শহর ঘুরে দেখা যাবে। ওইদিন ডা. হাসান ও ডা. আনোয়ার ভাইয়ের কোন দেখা পেলাম না। অনেক লোক সঙ সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে ওদের সঙ্গে ছবি তুলছি এমন সময় একজন বলল, ওই যে লুক মন্টেইনার স্যার, যিনি এইডসের জীবাণু আবিষ্কার করেছেন। আমি দৌড়ে গিয়ে তার সঙ্গে একটা ছবি নিলাম। ছবিটা তুলে নিজেকে বেশ ধন্য মনে করছিলাম। এইডস নিয়ে ১৯৯৩ সাল থেকে কাজ করি এবং প্রতিটি ক্লাস নেয়ার সময় তাঁর নাম উচ্চারণ করি। আজ তাকে স্বচক্ষে দেখলাম। আমার ভাগ্য বটে। যেদিন দেশে ফিরে আসব তার ঠিক আগের দিন আমরা সবাই উপহার বিনিময় করলাম। ডা. ডোনা আমায় একটা বেতের ট্রে উপহার দিলেন, যেটা আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়েছিল। এত মজার সময় কাটিয়েছি ওই দলটার সঙ্গে; ছেড়ে আসার সময় খারাপ লাগছিল। ডা. হাসান মাহমুদ,
ডা. আনোয়ার হোসেন এবং আমি এই তিন বাঙালি এক সঙ্গে দেশে ফিরছি। হাসান ভাই পেনে আমার পাশে বসে ঘুমাচ্ছেন এবং নাক ডাকছেন।
আমার খুব হাসি পাচ্ছে। এয়ারহোস্টেস যখন খাবার নিয়ে এলো, তাকে ডাকলাম। খেতে খেতে বললাম, হাসান ভাই, আপনি কিন্তু বেশ জোরে জোরে নাক ডাকছিলেন। তিনি কিছুতেই স্বীকার করেন না। বললেন, হইতেই পারে না। আমি বারবার তাকে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করছিলাম। এক সময় তিনি বলে বসলেন, আপনি যে পেনে উঠেই ঘুমাতে শুরু করে চিকন সুরে নাক ডাকছিলেন, তার কি হবে? আমি বললাম, হইতেই পারে না। কিছুক্ষণ ঝগড়া করে আমরা তিনজনেই ঘুমোতে ঘুমোতে নাক ডাকিয়ে দেশের উদ্দেশে উড়লাম।
 
নিউইয়র্কের শিল্পীদম্পতি নাজমা ও আনোয়ারের ব্যতিক্রমধর্মী ইংরেজী নববর্ষ উদযাপন
হাকিকুল ইসলাম খোকন
নিউইয়র্কের সুপরিচিত শিল্পীদম্পতি নাজমা আনোয়ার ও আনোয়ার হোসেনের উদ্যোগে ব্যাতিক্রমধর্মী ইংরেজী নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা ৮টায় সিটির ব্রুকলীনে অনুষ্ঠানের শুরুতে ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধসহ আজ পর্যন্ত সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে দাড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সঙ্গীত শিল্পী নাজমা আনোয়ার এর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সুন্দর সাবলীল অনুষ্ঠানে সমবেত দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রবাসের শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক, কবি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আনন্দঘন পরিবেশে রাত ১২টা ১ মিনিটে বিশাল আকারের কেক কাটা ও মোমবাতি প্রজ্জলনের মাধ্যমে ইংরেঝী নববর্ষকে স্বাগত জানান উপস্থিত অর্ধশতাধিক অতিথি । এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর পরিচালক, বিশিষ্ট সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীতজ্ঞ আলী হোসেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক প্রবাসী বিশিষ্ট সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীতজ্ঞ নাদিম আহমেদ, বাপ্সনিউজ এডিটর ও জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা বোস্টন বাংলা নিউজ প্রধান সম্পাদক হাকিকুল ইসলাম খোকন, কবি হাবিবুর রহমান হাবিব, নাসিম আহমেদ, রানা জামান, নাজনিন জামান, সামবুল আহমেদ, রেশমিন আহমেদ, আশরাফ খান, সাবিহা চৌধুরী, রাফিউর রহমান, হারুন খান, মনিকা রায়, গৌতম রায়, রুকসানা হাবিব, নাহিদ আনজুম, লুৎফুল হায়দার, কলি হায়দার, মিজানুর রহমান, দিল আকতার, মিসেস আলী হোসেন, মনিরুল হাসান, ফরহাদ খান, খায়রুল নাহার খান, সিবানা হায়দার ফারা, রিফাত সুলতানা, জারা জাহিন, সাবরিনা হাবিব।
২য় পর্বে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন নাজমা আনোয়ার, আনোয়ার হোসেন, মনিকা রায়, গৌতম রায়, হাবিবুর রহমান হাবিব, রুকসানা হাবিব, সাবরিনা হাবিব, সিবানা হায়দার ফারাহ, স্নেহা আনোয়ার, হারুন খান এবং প্রধান অতিথি আলী হোসেন ও বিশেষ অতিথি নাদিম আহমেদ। কবিতা আবৃত্তি করেন হাবিবুর রহমান হাবিব। সঙ্গীতানুষ্ঠানের মাঝে রাত ১০টায় রকমারী ও মজাদার নৈশভোজ ছিল সকলের প্রসংশনীয়। সঙ্গীতের মাঝে মাঝে লুৎফুল হায়দার উপস্থিত সূধীজনদের মাঝে চা পরিবেশন করেন।
 
মেয়র ব্লুমবার্গের ইন্টারফেইথ ব্রেকফাস্ট এ কমুউনিটি নেতাদের অংশগ্রহণ
মতিউর রহমান লিটু, পিবিসি নিউজ
ধর্মীয় অনুভূতিতে সহনশীল নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ গত ৩১ ডিসেম্বর নিউ ইয়র্ক সিটি পাবলিক লাইব্রেরীতে এক ইন্টার ফেইথ ব্রেকফাস্টের আয়োজন করেন।
পৃথিবীর মেগা সিটি নামে পরিচিত নিউ ইয়র্কের প্রায় সকল ধর্মের কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এতে অংশ গ্রহণ করেন। ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠানে মেয়র ব্লুমবার্গ তার বক্তব্যে সিটি অফ নিউ ইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইমিগ্রান্টদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে ইমিগ্রান্টদের ভুমিকা অপরিসীম। ধর্মীয় সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ ইমিগ্রান্ট ভাইবোনদের কাছে জাতি চির কৃতজ্ঞ। সময়ের প্রয়োজনে তাই বর্তমানে ইমিগ্রেশন রিফর্ম একটি যৌক্তিক দাবী, এই দাবীতে আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। এছাড়া তিনি ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষায় সর্বদা সোচ্চার ও সক্রিয় থাকবেন বলে আশ্বাস দেন।
উপস্থিত সকলের টেবিলে দেয়া একটি ফর্মে স্বাক্ষর করে কম্প্রিহেন্সিভ রিফর্মের সমর্থন করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। ইমিগ্রেশন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে উপস্থিত সকলে আনন্দিত ও অনুপ্রাণিত হয়ে হল কাপানো তালি দিয়ে মেয়র ব্লুমবার্গকে অভিনন্দন জানান।
বাংলাদেশী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মাঝে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সেন্ট্রাল ব্রংক্সস রোটারী ক্লাব নেতা সাখাওয়াত আলী, প্রেসিডেন্ট অফ বিএসিসি মোহাম্মাদ এন মুজুমদার, বিএসিসি সাধারণ সম্পাদক নজরুল হক, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি মিসেস নার্গিস আহাম্মেদ, ইমাম হাজী কাইয়ুম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাঈদ মান্নান, বিশিষ্ট আইনজীবী অশোক কর্মকার প্রমুখ।
 
দেশের শীতার্ত লোকের পাশে দাঁড়াল মাসিক মুকুল
শাওন শাহাদাৎ
শুধু প্রকাশনার মধ্য সীমাবদ্ধ নয় মানবিক কল্যাণ বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ ও মানবতার দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোই মুকুলের লক্ষ্য। দেশের উত্তবঙ্গের দরিদ্র লোকজনেরা যখন শীতের প্রকোপে রাত-দিন পার করছিলো তখন তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আবার সেই কথা প্রমাণ করলো মাসিক মুকুল। বাংলাদেশের অথেনটিক ফাউন্ডেশন ও আমার ব্লগের সাথে যোগ দিয়ে আরব আমিরাতের দুবাই থেকে আর্থিক সহযোগিতা করে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে পত্রিকাটি। আর এ মহতি কাজে দুবাই থেকে অংশ নিয়েছেন সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ আমিরাত শাখার সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল করিম, মাসিক মুকুলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ফয়সল আহমেদ, সম্পাদক লুৎফুর রহমান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আব্দুল আজিজ সেলিম, সাহিত্য সম্পাদক ফেরদৌস রায়হান, মুকুল পরিজন আমিরাত শাখার যুগ্ম সম্পাদক মশকুর আহমদ, সাংগাঠনিক সম্পাদক আফজাল সাদেকিন ও পরিজন রেজাউল করিম রাজ। উল্লেখ্য, আগামিতে দেশের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পারিবার ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের পাশেদাঁড়াবে মুকুল পরিবার।
 
 
যোগাযোগ Bookmark and Share মতামত
সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম মিন্টু Editor : Shahidul Islam Mintu Mailing address : 2722-9 Crescent Town Place, Toronto, Ontario, M4C 5L8, Canada. Phone : 416-262-9642 Email : bengalitimes@gmail.com Copyright Bengali Times INC 2010. All rights reserved. . . . .
Powered By:orangebd