
বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া সেজে প্রতারণাকারীরা অন্টারিও এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় অন্তত ৩২টি বাড়িকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে বলে তদন্তকারী ও কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন। কিং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিমা তদন্তকারী ব্রায়ান কিং বলেছেন, তার প্রতিষ্ঠান অন্টারিওতে এ ধরনের ৩০টি অভিযোগ পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে ছয়টি টোটাল টাইটেল ফ্রড, যাতে প্রতারকরা বাড়ির মালিক সেজে তা বিক্রির জন্য তালিকায় নাম ওঠায়।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ল্যান্ড টাইটেল অ্যান্ড সার্ভে অথরিটি ২০২১ সালে এই বলে সতর্ক করে দেয় যে, বিদেশে থাকা বাড়ির মালিক সেজে তা বিক্রি করে দেওয়ার অন্তত দুইটি চেষ্টা চলে। কিং বলেন, এই প্রতারকরা এমি অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু তারাই একমাত্র ব্যক্তি নন, যারা এ ধরনের প্রতারণায় জড়িত। আপনাদের এটা বুঝতে হবে যে, দলবদ্ধভাবে এটা করা হচ্ছে। এটা করতে কয়েকজনের প্রয়োজন। তার প্রতিষ্ঠান টোটাল টাইটেল ফ্রডের ছয়টি ঘটনা তদন্ত করে দেখছে।
কিংয়ের তদন্তাধিন মামলাগুলোর মধ্যে মফি ই্য়ুর মামলাটিও রয়েছে। টরন্টোর কন্ডো মালিক মফি ই্য়ু জানতে পারেন যে, দুই দুই শয়নকক্ষের বাড়িটি অন্য কেউ মাািলক সেজে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করে এবং ৯ লাখ ৭০ হাজার ডলারে তা বিক্রিও করে।
কিং বলেন, টোটাল টাইটেল ফ্রড এক সময় খুবই বিরল ঘটনা থাকলেও এখন তা প্রায় স্বাভাবিক।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ল্যান্ড টাইটেল অ্যান্ড সার্ভে অথরিটি ২০২১ সালের মার্চে দেওয়া এক নোটিশে জানায়, বিদেশে থাকা দুই বাড়ির মালিক সেজে প্রতারকরা বাড়ির ব্যবস্থাপককে বোকা বানাতে সক্ষম হওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পারে। এর মধ্যে একটি প্রতারণা সফলভাবে সম্পন্নও হয়। রিয়েলটরের মাধ্যমে দুটি বাড়িই বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়।
কিং বলেন, টাইটেল অথবা মর্টগেজ প্রতারণা সাধারণত সেইসব বাড়ির ক্ষেত্রেই ঘটে যেগুলোতে মর্টগেজের পরিমাণ কম বা নেই। এ ধরনের বাড়ি সনাক্তের পর প্রতারকরা বাড়ির মালিকদের নামে পরিচয়পত্র তৈরির জন্য তাদের নিয়ে গবেষণা শুরু করে। বিক্রির জন্য তালিকাভুক্তির জন্য তারা ৫ থেকে ১০ হাজার ডলার পরিশোধ করে। এরপর সন্দেহ নেই এমন ক্রেতাদের কাছে দ্রুত তা বিক্রি করতে চায়। তারা অনেক দাম চায় না। কারণ, তারা দ্রুত চুক্তিটি করে সটকে পড়তে চায়। যত দ্রুত বিক্রি করে সটকে পড়া যায় ততই ভালো। সম্প্রতি তারা একটি মামলা পেয়েছে যে বাড়িটির দাম ২২ লাখ ডলার।