
ফাঁদে ফেলে বন্ধুত্ব পাতানো, ছবি ও ভিডিও শেয়ার করার মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ। সেই ফাঁদে যাতে ভারতের আধাসামরিক বাহিনীর কর্মীরা পা না দেন, তা নিয়ে সতর্ক করেছে দেশটির গোয়েন্দারা। শুধু তাই-ই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি পোস্ট না করা, বন্ধুত্বের অনুরোধ, এমনকি কোনো রিলও না বানানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সিআরপিএফ, আইটিবিপি, সিআইএসএফ ও বিএসএফের সব কর্মীকে।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বেছে বেছে নিরাপত্তাবাহিনীর কর্মীদেরই টার্গেট করা হয়। ‘যৌনতার ফাঁদ’ পেতে অনলাইনে বন্ধুত্ব করা, ছবি ও ভিডিও শেয়ার করার মতো ঘটনা ঘটছে। এমন বেশকিছু ঘটনা মাঝে মধ্যেই প্রকাশ্যে আসছে। ওই ফাঁদে যাতে ভারতের কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্মীরা পা না দেন, তাই তাদের সতর্ক করা হয়েছে।
গোয়েন্দাদের থেকে এমন সতর্কবার্তা পাওয়ার পরই দেশটির আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশক সদস্যদের সতর্ক করার কাজ শুরু হয়েছে। যদি সেই নির্দেশ না মানা হয়, তা হলে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
সিআরপিএফের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, তাদের বাহিনীর প্রত্যেক কর্মীকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। কোনো অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাপ করা যাবে না। ছবি ও ভিডিও পোস্ট করার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কেউ সেই নির্দেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভারতের অন্য আধাসামরিক বাহিনীকেও একই সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় কর্মরত নিরাপত্তাবাহিনীকে ফেসবুকে রিল তৈরি বা ছবি প্রকাশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উর্দি পরে কোনো ছবিও যেন সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট না করা হয়, সেই পরামর্শও দিচ্ছেন গোয়েন্দারা।
সম্প্রতি বিশাখাপত্তনম স্টিল প্ল্যান্টে একটি ‘যৌনতার ফাঁদের’ ঘটনা ঘটেছে। এক সিআইএসএফ কর্মীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
এর আগেও এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। নিরাপত্তাবাহিনীতে কর্মরত ব্যক্তিদের বেছে বেছে নিশানা বানিয়ে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। তাই এবার রাশ টানতে কড়া পদক্ষেপ করা নিয়েছে ভারতের নিরাপত্তাবাহিনী।