
সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে প্রিয়জনের কাছে আসার গল্প যেন দিন দিন বেরিয়ে চলেছে। সম্প্রতি সে রেশকে আরও বাড়িয়ে দিলেন কোরিয়ান এক তরুণী। ভারতীয় এক যুবককে বিয়ে করতে প্রেমের টানে তিনি এখন অবস্থান করছেন ভারতে। বিয়ের পর ভারতের পরিবেশের সঙ্গেই নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের বরাতে জানা যায়, ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাহাজাহানপুরের এক তরুণ সাউথ কোরিয়ান এক তরুণীর সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন। ভারতীয় সেই যুবকের নাম সুখজিৎ সিং।
ছয় বছর আগে সুখজিৎ কাজের সন্ধানে গিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায়। সেখানে কফি রেস্তোরাঁয় কাজ শুরু করেন। ওই রেস্তোরাঁতেই বিলিং সেকশনে একদিন কাজ করতে আসেন কোরিয়ান তরুণী কিম বো নি।
পরিচয় একসময় প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। এরপর হঠাৎ সুখজিৎ ৬ মাসের জন্য ভারতে চলে আসলে তা কিছুতেই মেনে নেননি কিম। কোরিয়া থেকে দিল্লিতে চলে আসেন। তারপর খুঁজে বের করেন সুখজিতের বাড়ি।
সুখজিতের বাড়িতে কোরিয়ান তরুণী দেখে গ্রামে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। পাড়া প্রতিবেশি দল বেঁধে দেখতে আসছে বিদেশিনিকে। কিমও গ্রামের জীবনে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। যদিও হিন্দি বা ইংরেজি কোনো ভাষাই কিম জানেন না।
টুরিস্ট ভিসাতে আসা কিমকে এরই মধ্যে বিয়ে করে ফেলেছেন সুখজিৎ। বিয়ের ১৫ দিন পার করেছেন সে কোরীয় প্রেমিকা কিম। ভারতে স্বামীর পরিবারের সঙ্গে থাকতে চান তিনি। তবে মাস খানেকের বেশি ভারতে থাকতে পারবেন না এ কোরিয়ান তরুণী। টুরিস্ট ভিসাতে আসায় ইচ্ছা থাকলেও ভারতে থাকার উপায় নেই বলে সুখজিৎ ঠিক করেছেন কোরিয়াতেই স্ত্রীকে নিয়ে সেটেল্ড হওয়ার।
দেশের গন্ডি কিংবা ভাষার পার্থক্য কোনোটাই যে প্রেমের ক্ষেত্রে বাঁধা হতে পারে না তা আরও একবার প্রমাণ করল যেন সুখজিৎ- কিম।