
দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করায় শফি আহমেদ এর কাছে আমরা ঋণী !
কিছুদিন আগে ঢাকায় আমাদের বাসায় একটি গানের প্রোগ্রাম করেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিলো ঢাকায় আমাদের ভাইবোন বন্ধু , প্রিয়জন , কাছের মানুষ সহকর্মী ও কাছের কিছু আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা করা ও ওদেরকে কিছু ভালমন্দ খাওয়ানো। সেখানে আমার সহকর্মী বন্ধু তাহেরা আপাও এসেছিলেন। এসেছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত নজরুল গীতি শিল্পী নওশের কাদেরী ও বন্ধু জান্নাত ই ফেরদৌসি লাকি।
যাহোক, যা বলতে চাচ্ছি তাহেরা আপা আমার প্রাক্তন কর্মস্থল বিমানের সহকর্মী। তিনি সদ্য প্রয়াত রাজনীতিবিদ শফি আহমেদ এর স্ত্রী।
সেদিন, অন্য একটি প্রোগ্রাম থেকে তিনি আমাদের বাসায় জয়েন করলেন। ওদিন আমাদের বাসায় বিয়ে বাড়ীর মতো খাবার রান্না হয়েছিলো। তার সাথে ছিলো রূপচাঁদা ফ্রাই। তো তাহেরা আপা এসেই আমাকে বলল ‘তোমার দুলাভাই শাফি আহমেদ এর জন্য কয়েকটি পিস রূপচাঁদা দাও। সে মাংস খায়না।’
আমি আপার কথা শুনে হতবাক ! এতো প্রেম তার জন্য !! এতো বছরের বন্ধুত্ব , কখনো হাজবেন্ড এর প্রতি এই ” টান ” এর কথা এভাবে প্রকাশ করেন নিতো ! আপার অভিযোগ ছিল , নিবেদিত প্রাণ রাজনীতি করায় সংসারের অতিরিক্ত চাপ আপাকে বহন করতে হতো, এইসব।
কথা হচ্ছে আমি তাদের এই ব্যক্তিগত বিষয়টি ক্যানো ফেইসবুকে প্রকাশ করছি ?
আমি এজন্য প্রকাশ করছি যে , কাউকে ভালোবাসার কথা ঘটা করে বলতে হয়না। এই ছোট একটি বিষয় দিয়েই বুঝে নিয়েছি , দুলাভাইয়ের জন্য আপার কিরকম অনুভুতি ! কিন্তু সব সময় আমাকে বলতেন, তোমার দুলাভাই সংসারের জন্য এই করেন নাই সেই করেন নাই। রাজনীতি করে ,কিন্তু তার কোন ডিমান্ড নেই। ক্ষুধা লাগ্লে মাও দুধ দেয়না। তোমার দুলাভাই নিজের কথা মুখ ফুটে বলেনা।
মনে পড়ে বাচ্চাদের উন্নত দেশে লেখাপড়া করানোর জন্য হাজবেন্ড এর সাথে কিরকম স্ট্রাগল করেছে এই নারী !
শফি আহমেদ এর নিবেদিত প্রাণ রাজনীতির সমস্ত ঝড় ঝাপ্টা গিয়েছে এই আপার উপর ! চলে যাবার পর এখন দেখিছি ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে ! হাজবেন্ড এর ছবি শেয়ার করছে !
যাহোক, শফি আহমেদ ৯০ এ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নায়ক ছিলেন। আমরা তার কাছে ঋণী। তাঁর পরিবারের প্রতি ঋণী ! যে কোন কিছু না পেয়েই চলে গেলেন, তার জন্য দোয়া ছাড়া আর কি করার আছে? তবে তার পরিবারের জন্য কিছু করার পথ এখনো রয়েছে।
টরন্টো, কানাডা