8.5 C
Toronto
শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫

পাখি উড়িয়া উড়িয়া…

পাখি উড়িয়া উড়িয়া… - the Bengali Times
প্রতিদিন এই আস্তাবলে ঘোড়ার ঘাস কেটে আসতো দিনমজুর

পাখিটা উড়ে গেল আস্তাবল ছেড়ে।

প্রতিদিন এই আস্তাবলে ঘোড়ার ঘাস কেটে আসতো দিনমজুর। পাখিটা মাঠ থেকে উড়ে আসত মাথার উপর, এইটুকু ছায়া পেত মজুর। হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকত এ লাইন থেকে সে লাইনে। একটা একটা করে সরু উঁচু ঘোড়াগুলোকে বলতো আর কিছু লাগবে? আজ বিশ্রাম নাও কাল সকালে দেখা হবে।

- Advertisement -

গুড নাইট।

পাখিটা সেসব দেখত। পাখি হামাগুড়ি দিতে পারে না তাই মুখ লুকিয়ে দেখত আর বলতো আমার সাথে কী কোন কথা নেই। এমন পাখি বিদ্বেষী মজুর দেখিনি কো।

পাখিদের লজ্জা মানুষ থেকে অনেক বেশি। পাখিরাও অভিমানী হয়।

পাখিটা উড়ে যাচ্ছে। ওকে কেউ ঠিকানা দিয়ে এসো। ও মিশে যাবে অন্য পাখিদের মাঝে। নিজেকে হয়ত লুকিয়ে রাখবে। হয়তো আসবে ফিরে আবার বছর কুড়ি পরে। নিজে আসতে না পারলে যার কাছে বলবে দিনমজুরের সাথে তার ভালোবাসার গল্প, সেই পাখিটা আসবে।

দুদিন আগে তারই পোষা একটি ঘোড়া লাথি দিয়েছিল। হয়তো বাতাসের গায়ে যাবার কথা ছিল হয়তো লাথি দিয়েছিল মালিককে। কিন্তু লাথিটা লেগেছিল মজুরের বুকে। চামড়ার নিচে যেখানে হৃদপিণ্ড থাকে ঠিক সেখানে। তিনদিন ভুগে আস্তাবলের মেঝেতে শেষ নিঃশ্বাস ফেললো দিনমজুর।

ঘোড়াগুলো সব দাঁড়িয়ে ছিল লাইনে। মজুরের শেষ নিঃশ্বাস গিয়ে পড়লো তাদের কারো ঘাড়ে। তখন থেকে ওরা ভেঙ্গে ফেলতে চেয়েছিল আস্তাবল।

কি ভীষণ চিৎকার ওদের। এক সাথে ডেকে ডেকে বলেছিল আমরা কিছু করতে পারলাম না, তোমরা তো পারতে।

যে ঘোড়াটার লাথি খেয়ে দিনমজুর চলে গেল দুনিয়া ছেড়ে, শুধু সে করেনি কোন চীৎকার। যেদিনের ঘটনা, সেদিন থেকে সে নির্বাক। সবচেয়ে বেশি আদর পেত সে। আজ সে ভুলে গেছে কি করে দিতে হয় চিৎকার।

সব দিনমজুরের মালিক থাকে। এই মজুরটিরও মালিক ছিল। মালিক এসেছিল দল বেঁধে। ঘোড়ার ডাক্তারকে বলেছিল মানুষের চিকিৎসা করতে। বলেছিল ঘোড়াগুলো চেক করে যেও। বিশেষ করে যার লাথি খেয়ে মরার পথ ধরেছে মজুর। আগামী সপ্তাহ ওকে দিতে হবে দৌড়। এবার ভীষণ বড় বাজি হবে। কিন্তু আমার রাজা ঘোড়া যে কথা কইছে না। শালাকে গুলি করে মারবো যদি এবার হেরে যাই শত্রুর ঘোড়ার কাছে।

পাখিটা কিছুদিন একা একা মাঠে গিয়ে বসে থেকেছে। একা ফিরে এসেছে আস্তাবলে। অনেকদিনের অভ্যাস তার। এখন আর কাউকে দেখা যায় না মাঠ থেকে আস্তাবলে আসতে। তার ছায়ার নিচে হাটেনি অন্য কোন মজুর।

পাখিটা তিন মাইল দূরে এক গোরস্থানেও গিয়েছিল। ঢিবি করা মাটি দেখে সে বুঝতে পারে না ঢিবির নিচে মজুর কি করে হাটে।

বলেছিলাম না পাখিদের অভিমান আছে। আজ অভিমান নিয়ে শেষবার এসেছিল আস্তাবলে।

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles