
১৯৯৭ সালে সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখে পরিকল্পণা কমিশন এবং বাংলাদেশ ছেড়ে লন্ডন চলে আসি বৃত্তি নিয়ে। আমার বস যিনি বলেছিলেন-আখের গোছাতে এসেছেন তিনিই এবার আমার ভাগ্যের সহায়ক হয়ে কাজ করলেন। কথাটি কেন বলেছেন সেটা নাইবা বুঝলাম তবে আমি তাকে যে কথা শুনিয়েছিলাম তাতে তিনি অত্যন্ত মুষড়ে পড়েছিলেন এবং পরিবর্তীতে নজর রেখে ছিলেন কিসে আমার মঙ্গল হয়। তার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা আজীবন থাকবে।
পরিকল্পন কমিশনে আমার একজন সহকর্মী ডা: ফয়জুল আগের বছরে বৃটেনের একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম বি এ করে এসেছে। আমি রিলিজ নেয়ার আগের দিন সকালে অফিসে একটি নোট বুক এনে ফটোকপি করে আমাকে গুছিয়ে দিয়ে বললো-আযম ভাই এটি নিয়ে যান কাজে লাগবে। আমি সেটি সাথে নিয়ে এলাম বৃটেনে। ক্লাস শুরুতেই এ্যাসাইনমেন্ট পেলাম বাংলাদেশের Health Planning and Administration এর উপর।
শিক্ষকদের কথা তোমরা যা পারো যেভাবে পারো লিখে জমা দেবে সময় ২০ দিন। কিভাবে লিখবো কেউ নেই সাহায্য করার। একদিন ব্যাগ খুলে ফায়েজুলের দেয়া নোটটি খুলে অবাক হলাম। সে তো ঠিকই বলেছিলো হুবুহু এ্যাসইনমেন্টতো আমার কাছে। ওটা পড়ে এবার নিজের মতো করে লেখা শুরু করলাম। প্রথম কম্পিউটারে টাইপ করিছি ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরীতে বসে। সহকর্মী ফায়েজের জন্য দোয়া করলাম।
Health Planning and Management এর উপর MBA নিয়ে দেশে ফিরলাম। ভেবেছিলাম কিছু দিন বিশ্রাম নেব কিন্তু বেশীদিন বাসায় বসে থাকতে ভালো লাগেনি তাই একদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গেলাম। ফাইল সেকশনে গিয়ে আমার ফাইলটি বের করলাম। এখানে ফাইলে হাত দিতেও পয়সা দিতে হয়। যাহোক ফাইল খুলেতো হতবাক স্বয়ং ডিজি স্যার নোট দিয়েছেন-তাকে মৌখিক নির্দেশে পরিকল্পণা শাখায় যোগ দিতে বলুন। যেখানে একটি পোষ্টিং এর জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে তদবির করতে হয়েছে সেখানে এই অভাবিত পাওয়া আমার চিন্তায় নতুন উপাদান যুক্ত করলো -এ যেন মেঘ না্ চাইতেই জল!
ইয়েলোনাইফ, কানাডা