8.5 C
Toronto
শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫

যার কোন লোভ নাই

যার কোন লোভ নাই - the Bengali Times
গতরাতে একটা খবর হঠাৎ চোখে পড়লো গুলিস্তানের ঐতিহ্যবাহী বঙ্গবন্ধু এভিনিউ নাম পরিবর্তন করে শহীদ আবরারের নামে নামকরণ করা হয়েছে

আমাকে অনেকে প্রশ্ন করছেন “যার কোন লোভ নাই, দল নাই তাহলে তিনি কেনো কাঁঠের পুতুলের মতন সব গদিতে বসে দেখছেন এবং নীরবে নিভৃতে সব মেনে  নিচ্ছেন? যার আগে পিছনে কোনো লোভ লালসা ভয়ডর নেই তাহলে তার শাসন ব্যবস্হা থাকবে কঠোর, কঠিন অর্থ্যাৎ ১০০% আইনের শাসন। যদি তাঁহার মধ্যে ক্ষমতার সত্যি লোভ না থাকে তাহলে তিনি কিন্তু ইতিহাসের ঐতিহাসিক একজন শাসক হতে পারেন।”

আমি নিজেও কিছুটা অবাক হচ্ছি এই ভেবে যে কিছু বিষয় আছে তিনি কেন কিছু বলছেন না? কেন নির্লিপ্ত থাকছেন?  শুনলাম বেসরকারী প্রাথমিক শিক্ষকেরা বেতন ভাতা পাচ্ছেন না, পোষাক শ্রমিকদের একই অবস্হা। এগুলো দেখার কেউ কি নেই?

- Advertisement -

গতরাতে একটা খবর হঠাৎ চোখে পড়লো গুলিস্তানের ঐতিহ্যবাহী “বঙ্গবন্ধু এভিনিউ” নাম পরিবর্তন করে শহীদ আবরারের নামে নামকরণ করা হয়েছে। খুবই বিস্মিত হয়েছি। ৭২ সাল থেকে ২০২৪, বহু সরকার পরিবর্তন হয়েছে, এমনকি ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে পরিবারসহ নির্মমভাবে হত‍্যার পরও বঙ্গবন্ধু এভিনিউ নাম পরিবর্তন করা হয় নি। আমাদের শিক্ষা জীবনের অনেকগুলো বছর কেটেছে যখন ঐ সব এলাকায় বহুবার গিয়েছি, নানান রাজনৈতিক দলের অফিসে কিংবা জনসভায়। জাসদ/বাসদের অফিস ছিল সেখানে। গুলিস্তান কিংবা নাজ সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে, রমনা ভবনে স‍্যুটের কাপড় কিনতে কিংবা স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে। নানা ধরনের সাইনবোর্ড পড়ায় আমার আগ্রহ ছিল। অধিকাংশ সাইনবোর্ডে ঠিকানা লেখা ছিল এত নাম্বার, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ!

আমি মনে করি এই নাম পরিবর্তন করে শহীদ আবরারের নাম প্রতিস্থাপন করে দুজনকেই অপমান করা হয়েছে। শহীদ আবরারের নামে নুতন কোন সড়ক নামকরণ করা যেত। এভাবে ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না বরং বুমেরাং হবে। অনেকের মনেই বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে নুতন করে সফট কর্ণার জন্ম নিবে।

আমি বিশ্বাস করি না ড. ইউনুসের অনুমতি নিয়ে এগুলো করা হয়েছে। কারা বা কোন অতি উৎসাহী গ্রুপ এগুলো করছেন তাও কিছুটা আন্দাজ করতে পারি। কিন্তু বদনাম যা হবার সব হবে ড. ইউনুসের।

আমার পুর্ববর্তী পোষ্টে একজন মন্তব‍্য করেছেন, যার জন্যে আমরা পন্চাশ বছর অপেক্ষা করেছি তিনি ড. ইউনুস। অনেকেই বলতেন, আমাদের একজন মাহাতির মোহাম্মদ দরকার। কিন্তু আমাদের মোহাম্মদ ইউনুস রয়েছেন। দুঃখের বিষয় তিনি হয়তো বেশীদিন ক্ষমতায় থাকবেন না কিন্তু তাঁর গা’য়ে এই যে কালিমা লাগানো হচ্ছে তার কি আদৌ প্রয়োজন ছিল? এইসব করে কি কাউকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে?

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির সময়ে প্রায়ই বলতাম প্রতিহিংসার রাজনীতি করে কেউ লাভবান হয় না। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ যেভাবে শুধু নিজেদের ছাড়া অন‍্যদের অবদান স্বীকার করতো না, ফলে এই নিয়ে তাদের প্রচন্ড সমালোচনা হতো। অনেকেই বলতেন, “তোমারে বধিবে যে গকুলে বাড়িছে সে”! হায় মানুষ। আফসোস, নিজের কপালের লিখন কেউ আমরা পড়তে পারি না!

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles