5.7 C
Toronto
শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫

কানাডার নতুন বন্ধুত্ব!

কানাডার নতুন বন্ধুত্ব! - the Bengali Times
ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় গদিতে বসার পর কঠিন গর্জনে উলোটপালট করে দেন বিশ্ব

ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় গদিতে বসার পর কঠিন গর্জনে উলোটপালট করে দেন বিশ্ব। শত্রুতায় রূপ নিতে থাকে জমজ ভাইবোনের মতো আঁকড়ে থাকা প্রতিবেশী দেশ কানাডার সঙ্গে। জুড়ে দেন উঁচু শুল্ক কানাডার পণ্যে। থেমে থাকেন নি শুল্ক দিয়ে। সার্বভৌমত্ব হরণের হুমকি দেন।

কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ট্রাম্পের দেওয়া শুল্ক যু*দ্ধ মোকাবেলা করে পড়ে যাওয়া ইমেজ টেনে হিরোর মতো পারফরমেন্স করে বিদায়ের আগে জনগণের মনে জায়গা করে নেন।

- Advertisement -

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বদল হয়ে ২৪তম প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেন মার্ক কার্নি। বিশ্বের অর্থনৈতিক পটভূমিতে রয়েছে সর্বোচ্চ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা এই নতুন কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর।

তিনি শপথ নেওয়ার আগেই ঘোষণা দেন তাঁর প্রথম ও প্রধান কাজ হবে কানাডার অর্থনীতিকে ট্রাম্পের আগ্রাসন থেকে মুক্ত করা। আর ট্রাম্পের অলৌকিক স্বপ্ন পূরণ কখনোই সম্ভব হবে না বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারী দেন। তিনি বলেন, “”never, ever, in any way shape or form, be part of the United States”.

তো যাই হোক প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিয়েই তিনি তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে উড়াল দেন ফ্রান্স ও লন্ডনে। কারণ, তিনি সেখানে চুক্তি করে নতুনভাবে গড়ে তুলবেন বাণিজ্য পার্টনার। তিনি আরো বন্ধু দেশ গড়ে তুলবেন এ আশা ব্যক্ত করেছেন।

জিস্টিন ট্রুডো যাওয়ার পর মার্ক কার্নি তাঁর ডিফেন্স মিনিস্টার বিল ব্লেয়ারকে F-35 fighter jet কেনার জন্য রিভিউ করতে বলেছেন। কানাডা-আমেরিকা শুল্ক যু*দ্ধ বৃদ্ধির কারণে কার্নি এই যু*দ্ধ বিমান কিনতে চান। যদিও এটা আরো দুই বছর আগে থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল। যার দাম পড়বে 70 billion Canadian dollars।

এদিকে কার্নি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর জরিপে তাঁর দল লিবারেল 5% ওপরে উঠেছে। অন্য দিকে  Pierre Marcel Poilievre এর দল কনজারভেটিভ 3% নিচে নেমেছে। আর এনডিপি 2% নিচে নেমেছে।

অন্য দিকে কানাডিয়ানরা আমেরিকা বর্জনে কঠোরভাবে নেমেছেন। অন্টারিও সিটি থেকে নামিয়ে ফেলা হচ্ছে সমস্ত আমেরিকান পতাকা।

আগে যেখানে অসংখ্য কানাডিয়ান বর্ডার ক্রস করে কিংবা বিমানে করে আমেরিকা ভ্রমণে যেতেন, সেখানে এবছর কানাডিয়ানদের আমেরিকা ভ্রমণ বর্জনের হিড়িক পড়েছে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আমেরিকা ভিজিট হ্রাস পড়েছে। কানাডিয়ান অন্য দেশে যাচ্ছেন,  কানাডার মধ্যে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাচ্ছেন, এমনকি বাড়ির ব্যাকইয়ার্ডেই সময় কাটিয়েছেন এ মার্চ ব্রেকে। তাও আমেরিকা ভ্রমণে যাচ্ছেন না।

এছাড়া সকল স্টোরে আমেরিকার জিনিস বর্জন তো আছেই। এমনকি আমার ছেলের জন্য একটা টাওয়াল কিনে এনেছেন আমার husband. সেই টাওয়ালে বড়ো করে কানাডার পতাকার ছবি ও মেড ইন কানাডা লেখা।

যাই হোক, কথায় আছে অন‍্যের ওপরে বেশি ভরসা করতে হয় না। অন্যের ঘাড়ে চড়ে চলতে গেলে একদিন ঘাড় থেকে ফেলে দেবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

কানাডিয়ানদের অনেক সমস্যা হবে যতদিন না নতুনভাবে বাণিজ্য পার্টনার গড়ে তুলতে পারেন ও একটা স্থায়ীত্ব আসে। শুল্ক যু*দ্ধে অনেক ব্যবসায় লস হচ্ছে। অনেকের জব থাকছে না। তবে কানাডিয়ান সরকার অর্থ অলরেডি বিনিয়োগ করেছেন ব্যবসায় হেল্প করার জন্য।

আল্লাহ সবকিছুর জন্য উত্তম বিচারক।

আল্লাহ আপনাদের সুস্থ রাখুন।

 

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles