
রাজবাড়ীতে সালমা বেগম (২৫) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর তার কাছ থেকে টাকা লুট করা হয় বলে দাবি সালমার পরিবারের। গত সোমবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত ১১ টার পর যেকোন সময় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ৮ দিকে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ সালমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। সে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের হাউলি জয়পুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আজাদ মল্লিকের স্ত্রী।
এ ঘটনায় ফেসবুক বন্ধু মো. হেমায়েত উল্লাহকে (৩০) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (২ এপ্রিল) রাতে রাজবাড়ী থানা ও জেলা ডিবি পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে নোয়াখালীর চর-জব্বর থানা পুলিশের সহায়তায় আসামি হেমায়েতকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেফতারকৃত হেমায়েত নোয়াখালী জেলার চর জব্বর থানার মো. আহসান উল্লাহের ছেলে।অন্যদিকে নিহত সালমা বেগম রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের হাউলি জয়পুর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী আজাদ মল্লিকের স্ত্রী। তার সাদিক নামে সাত বছর বয়সি এক ছেলে ও সিনহা নামে পাঁচ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকালে রাজবাড়ী থানা পুলিশ বরাট ইউনিয়নের হাউলি জয়পুর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী আজাদ মল্লিকের স্ত্রী সালমা বেগমের গলায় ওড়না পেঁচানো মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গত বুধবার (২ এপ্রিল) নিহত সালমার বাবা সালাম শেখ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত আসামি সনাক্ত করা হয়।গত রাতেই নোয়াখালীর চর-জব্বর থানা পুলিশের সহায়তায় আসামি হেমায়েতকে গ্রেপ্তার করি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করেছে।
তিনি আরও জানান, আজ সকালে আসামীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত সালমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নূরপুর গ্রামের কৃষ্ণ হালদারের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শরীফ আল রাজীব বলেন, সালমার স্বামী প্রবাসে থাকেন। সালমার সঙ্গে আসামি হেমায়েতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয়। এরপর সালমা ঢাকায় থাকা অবস্থায় তাদের একাধিকবার দেখা হয়েছে। সালমা রাজবাড়ীতে চলে আসলেও হেমায়েতের নিয়মিত যাতায়াত ছিল রাজবাড়ীতে। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও হয়। মূলত পরকীয়ার সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে সালমাকে হত্যা করা হয়।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোছা. শামিমা পারভীন বলেন, মামলাটি ক্লুলেস।যে কারণে দ্রুততার সঙ্গে আমরা তথ্য প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে আসামিকে সনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। আসামিকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আসামির সঙ্গে কয়েক বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে নিহত সালমার পরিচয় হয়।ফেসবুক বন্ধু হিসেবে ঈদ উল ফিতরে আসামি হেমায়েত সালমার (নিহত) বাড়িতে বেড়াতে আসেন। নিহত সালমার সাত বছর বয়সি ছেলে সাদিক বলে, ঘটনার রাতে আমাদের ঘরে তিনজন এসেছিল।দুজনের মুখে মুখোশ পরা ছিল। তারা আমার আম্মুকে মেরেছে। হেমায়েতের পরিচয় জানতে চাইলে সে বলে, আমরা যখন ঢাকায় থাকতাম তখন থেকে হেমায়েত আঙ্কেল আমাদের পরিচিত।