
প্রিয় শিল্পী সুরঞ্জনা ভট্টাচার্য যতটা হাসি খুশি মিশুক ততটাই অন্তরমুখি নিজের কাজ নিজের শিল্প অন্যদের সামনে প্রদর্শন করতে। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে ঢাকা ও কানাডার মন্ট্রিয়ল শহরে কাজ করে চলেছেন অথচ এতদিন মন্ট্রিয়ল থকে ফোনে অনুরোধ করলেন ঢাকার আবাসে তার ছবি ঢাকা ছাড়ার আগে আমাকে দেখে আসতে ।
সুরঞ্জনা সদ্য ঢাকা ছেড়ে ফিরে গেছেন মন্ট্রিয়লে। স্বামী শিশির ভট্টাচার্য্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক, ফরাসি পণ্ডিত বলতে কোনো বাধা নেই। শিশির আমাদের চট্টগ্রাম মায়ের সন্তান। তারা দুইজনই আমার প্রিয়জন। সুরঞ্জনা কাজ করছেন দীর্ঘ কাল ধরে, কখনো এক নাগাড়ে করতে থাকেন, কখনও থামিয়ে দেন। সুরঞ্জনার অন্তর্ভাবনা আর শিল্পভাবনা মূর্ত হয়ে উঠে রঙিন কাপড়ের টুকরোর কোলাজে। বাংলাদেশে বিরলই বলা চলে রঙিন কাপড়ের এই কোলাজ।
চিরাচরিত রঙ লেপন শিল্পীরা অহরহ কাজ করেই চলেছেন। এর মধ্যে সুরঞ্জনার কাজ ব্যতিক্রম। এক নতুন বাতাসের পরশের মতো মনো হলো আমার কাছে। স্বনামধন্য শিল্পী রশিদ চৌধুরী বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্যারিস থেকে ফিরে এমনিভাবে রঙ লেপার মাধ্যম থেকে সরে এসে রঙিন সূতোর বুননের মাধমে অপূর্ব সৃষ্টি শুরু করেছিলেন যা আজ ‘ট্যাপিস্ট্রি’ নামে বিখ্যাত। সুরঞ্জনা ভট্টাচার্যের কাজে বোল্ড রঙের কাপড়ের ফালি সহাবস্থান করলেও নিজেদের মধ্যে তারা এক মজার আত্মীয়তা তৈরি করতে পারে যা দৃষ্টিনন্দন।
শিশির জানালেন, আগামী বছরের শুরুতে ঢাকায় সুরঞ্জনার কাজের প্রদর্শনীর আয়োজন হবে। মন্ট্রিয়ল থেকে সুরঞ্জনা জানালেন, তার ইচ্ছা আছে আগামী বছরের মাঝামাঝি টরন্টো শহরে একটি প্রদর্শনী করার। আমার শুভ কামনা রইল।