
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনসার আলীর প্রচার পোস্টার ছবি সংগৃহীত
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ (কয়রা উপজেলা ও পাইকগাছা) আসনে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রচার-প্রচারণা না থাকলেও আওয়ামী লীগের এক ডজন প্রার্থী প্রচারণায় আছেন। এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনসার আলী নামে এক বৃদ্ধের আবির্ভাব আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর প্রধান কারণ আনসার আলীর স্ত্রী। যদিও কয়েক মাস আগেই মারা গেছেন তার স্ত্রী। তবে মারা যাওয়ার আগে প্রায় স্বামীকে বলতেন, সংসদ সদস্য হয়ে এলাকার মানুষের সেবা করতে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে সেই কথা কানে বাজতে থাকে তার। কয়েকদিন চিন্তা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। বুধবার (১ নভেম্বর) সময় সংবাদকে এসব কথা জানান আনসার আলী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে এলাকায় পোস্টার সাঁটিয়েছেন তিনি। পোস্টারে লেখা রয়েছে, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী, গরিব ও দুঃখীর সঙ্গের সাথি। স্ত্রী বলার কারণে আমি এ পথে এসেছি। তার ছবিসংবলিত পোস্টার কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে।
আনসার আলী বলেন, ‘এলাকার বেশিরভাগ মানুষ গরীব হওয়ায় আমার স্ত্রী বলত, কোনো এমপি তো কোনোদিন এলাকাবাসীর খবর নিলো না। কোনো উন্নয়নও আমাদের হল না। স্ত্রী সেই কথার স্মৃতিচারণ করতেই আমি এমপি হতে কাজ শুরু করেছি। দেখি স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে কিছু করতে পারি কিনা।’
স্থানীয়রা জানান, স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন বলে মনে হয়। কয়েক দিন ধরে দেখা যাচ্ছে, তিনি এলাকার বিভিন্ন জায়গায় সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে পোস্টার সাঁটাচ্ছেন। তার ছেলেমেয়েরা তাকে নিষেধ করেও থামাতে পারছেন না। বলছেন, স্ত্রীকে দেয়া কথা রাখতে তিনি এ পথে নেমেছেন।
উপকূলীয় অঞ্চল কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসন। সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষরা বিভিন্নভাবে বনের ওপর নির্ভরশীল। ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলার ক্ষত বয়ে বেড়ানো উপকূলীয় এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ দরিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত। অব্যাহত নদী ভাঙনে দিশেহারা খুলনার এ অঞ্চলের মানুষ। কখনো শাকবাড়িয়া আবার কখনো কপোতাক্ষের ভাঙনে প্রতিনিয়তই চরম আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটায় গ্রামবাসী। বিশেষত কয়রা উপজেলার ভাঙন কবলিত বেড়িবাঁধগুলো মেরামতের দাবি রয়েছে বহুদিন ধরে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও কার্যত দীর্ঘমেয়াদী কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি কেউই। এসব কারণেই সাধারণ মানুষের নির্বাচন ভাবনায় উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে যোগ্য প্রার্থীর বিষয়টিই প্রাধান্য পাচ্ছে। আর সাধারণের সমস্যা সমাধান ও স্ত্রীর অনুরোধ রাখতেই আনসার আলী হতে চান সংসদ সদস্য।
জানতে চাইলে নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে আনসার আলী বলেন, ‘এ এলাকার মানুষ চিরকাল অবহেলিত। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম দেশটায় যাতে সবার অধিকার সমান হয়। কিন্তু এত বছর পরও তা সম্ভব হয়নি। আমি এমপি হতে পারলে এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেড়িবাঁধগুলো মেরামত ও শিক্ষার মান বৃদ্ধিসহ মানুষের জন্য উন্নয়ন কাজ করতে চাই।’
আনসার আলীর দুই মেয়ে ও এক ছেলে আছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেটি ছোট। বাবার সঙ্গেই থাকেন। তিনি একটি মাছের ডিপোর ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন।