
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে প্রেমিক ও তার তিন বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে জেলার বাগাতিপাড়া ও সিংড়া থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— বাগাতিপাড়া উপজেলার কাকফো পুরাতনপাড়া গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে মেহেদী হাসান (১৯), হাটদোল গ্রামের বিচ্ছাদ আলীর ছেলে রনি (২২), একই গ্রামের মান্নান আলীর ছেলে রাজিব হোসেন (২২) ও সিংড়ার আগপাড়া-শেরকোল এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে গোলাম মোস্তফা (২০)।
পুলিশ জানায়, প্রায় এক বছর আগে দশম শ্রেণির এক তরুণীর সঙ্গে মেহেদী হাসানের পরিচয় হয়। এরপর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে মেহেদী হাসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন সময় তরুণীর সঙ্গে মেহেদীর শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়।
সর্বশেষে গত ৫ মার্চ রাতে দেখা করার কথা বলে বাগাতিপাড়া উপজেলায় তরুণীর বাড়িতে যায় মেহেদী। সেখানে গিয়ে তরুণীর কক্ষেই প্রেমিক মেহেদী হাসান তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। এসময় বাইরে পাহারায় থাকা মেহেদীর তিন বন্ধু কৌশলে কথিত প্রেমিক-প্রেমিকার শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে। কিছুক্ষণ পরে মেহেদীর ওই তিন বন্ধু তরুণীর কক্ষে প্রবেশ করে। এ সময় তারা তাদের কাছে থাকা মেহেদীর সঙ্গে তরুণীর শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও দেখিয়ে মেহেদীর উপস্থিতিতেই ওই তরুণীকে জোর করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
পরে ভুক্তভোগীর মুখ বন্ধ রাখতে তাকে বিয়ে করার আশ্বাস দেয় মেহেদী। কিন্তু ঘটনার পর তরুণীর সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেনি। বাধ্য হয়ে ঘটনার ২০দিন পর মঙ্গলবার বাগাতিপাড়া মডেল থানায় এসে ওই চারজনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী তরুণী গণধর্ষণ মামলা করেন।
এ ঘটনার পর পুলিশ বাগাতিপাড়ার হাটদোল গ্রামে বাড়ি থেকে একজনকে এবং সিংড়া উপজেলার খেজুরতলা এলাকার একটি থাই গ্লাসের দোকান থেকে অপর তিনজনকে গ্রেফতার।
আটকের পর অভিযুক্তরা পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। এসময় তারা ফাঁদে ফেলে কীভাবে গণধর্ষণ করেন তার বর্ণনা দেন।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী থানায় অভিযোগ করলে চারজন আসামিকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।